The High Court has formed a seven-member committee to obtain permission to cut trees along the city's roads, and the trees must be cut with permission from the committee, the High Court ruled.
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শহরে রাস্তার পাশে গাছ কাটার অনুমতির জন্য সাত সদস্যের কমিটি
গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট এবং কমিটির নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে কাটতে হবে গাছ হাইকোর্টের
রায়।
সারাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও
পরিবেশ দূষণ বন্ধ করে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জনস্বার্থে মানবাধিকার
ও পরিবেশবাদীর সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (HRPB) ২০২৪ সালে একটি রিট
পিটিশন দায়ের করে বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় নির্দিষ্ট একটি কমিটি গঠন করার।
নির্দেশনা চেয়ে রিট পিটিশন দায়ের
করা হয়। উক্ত রিট পিটিশন শুনানি শেষে গত ০৭.০৫.২০২৪ তারিখে আদালত বিবাদীদের প্রতি
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা কেন পরিবেশ ও মানবাধিকারের
পরিপন্থী হবে না এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ অনুযায়ী বপনকৃত গাছ না কেটে গাছের
মূল্যের সমপরিমাণ টাকা কেন রোপনকৃত ব্যক্তিদের প্রদান করা হবে না এবং গাছ কাটতে হলে
সকল পর্যায়ে কেন সাত সদস্যের কমিটির হতে অনুমোদন নিতে হবে না এ মর্মে রুল জারি করা
হয়।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি
মুবিনা আসাফের আদালতে শুনানি শেষে রুল absolute করে রায় প্রদান করেন এবং কতিপয় নির্দেশনা
প্রদান করা হয়। আদালত রায়ে বলেন, দিন দিন তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক সংখ্যক গাছ সংরক্ষণ
করা প্রয়োজন ব্যাপকভাবে গাছ কর্তন করা হলে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। যা
আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার কে খর্ব করবে। আদালত আরো বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য এর জন্য
যে পরিমাণ গাছ বাংলাদেশে থাকা দরকার তা নেই এবং গাছগুলোকে রক্ষা করা পরিবেশের জন্য
অত্যন্ত প্রয়োজন। উক্ত রায়ে সরকারি প্রজেক্ট এর ক্ষেত্রে রায় কার্যকরী হবে না মর্মে
নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালত রায়ে সাত দিনের মধ্যে
পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঢাকায় গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ,
ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর, সমন্বয় কমিটি
গঠন করতে নির্দেশ দেন। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সাত দিনের মধ্যে সার্কুলার
ইস্যু করে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী,
পরিবেশবিদ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে
কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। তারা গাছ কাটার অনুমতি প্রদান করবেন। আদালত অপর এক আদেশে
সাত দিনের মধ্যে সকল জেলা প্রশাসকদের প্রতি সার্কুলার ইস্যু করে উপজেলা পর্যায়ে গাছ
কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজ কর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ
কর্মকর্তা এবং এলজিইডি নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ
প্রদান করা হয়। যারা উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার সম্পর্কে অনুমতি প্রদান করবে। এছাড়া
রায় আরো উল্লেখ করা হয় যে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০২৪ এর অধীনে রোপনকৃত গাছসমূহ
কাটা যাবে না বরং গাছের সমমূল্য টাকা রোপনকারীকে প্রদান করতে হবে। এই মর্মে সামাজিক
বনায়ন বিধিমালয় পরিবর্তন আনায়নের নির্দেশনা প্রদান করেন। উক্ত রায়তে সরকারি প্রজেক্ট
এর ক্ষেত্রে রায় কার্যকরী হবে না মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়।
উক্ত রায়ের সার্টিফিকেট কপি
পাওয়ার পরে রায়ের ক্ষেত্রে প্রোজেক্টের গাছ অন্তর্ভুক্ত হবে না দেয়া আদেশের বিষয়বস্তুকে
রায় হতে বাদ দেওয়ার জন্য HRPB এর পক্ষে একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। গত ১৭.০৭.২০২৫
তারিখে আদালত রিভিউ এর উপরে রুল জারি করেন।
রিভিউ পিটিশন শুনানি শেষে আজ
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসান এর আদালত রায় দিয়ে HRPB
এর করা রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত রায়টি চলমান হিসাবে রাখা হয়।
HRPB এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ
সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। অপরদিকে
বিবাদীরা হলেন সচিব মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, সচিব জনপ্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সহ ১৫ জন।
HRPB এর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসদ, তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল, রাষ্ট্রপক্ষে
ছিলেন ডিএজি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
বার্তা প্রেরক
মনজিল মোরসেদ
সিনিয়র অ্যাডভোকেট